স্বপ্নের চেয়েও বড়। কারণ দেশ ছাড়ার সময় হয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেটার এবং সমর্থক কেউই কল্পনা করেননি এমনটা। এজন্যই বলা হয় মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়। পাকিস্তানের মাটিতে, পাকিস্তানকে পর পর দুই টেস্টে হারিয়ে যেন স্বপ্নকেই হার মানালো বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেটের জন্য এ যেন মনিকাঞ্চন যুগ!বদলে যাওয়া বাংলাদেশ যা করছে তাতেই সফল হচ্ছে।
রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারালো বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম টেস্টে একই মাঠে একই দলকে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা। পাকিস্তানীরা প্রথমবারের মতো টেস্টে সেবারই হার মেনে নেয় টাইগারদের কাছে। ঠিক পরের টেস্টেও হার মানলো তারা। বাঘা বাঘা টিমগুলো পাকিস্তানের মাটিতে এভাবে পাকিস্তানকে নাস্তানুবুদ করতে পেরেছে খুব কমই।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ৫ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। নাহিদা রানা পেয়েছিলের ৪ উইকেট। এদিন তাসকিন একটি উইকেট পেলেও স্পিনাররা পাননি কিছুই। তবে ম্যান অব দি সিরিজ হয়েছেন স্পিনিং অলরাউন্ডার মিরাজ।
টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিন মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ২ উইকেটে ১২২ রান তুলে লাঞ্চে যায়। জয় থেকে তখন বাংলাদেশ ছিল মাত্র ৬৩ রান দূরে। টার্গেট ১৮৫। লাঞ্চ থেকে ফিরেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন অধিনায়ক শান্ত। ১২৮ রানে পড়ে তৃতীয় উইকেট। শান্ত ৮২ বলে করেছেন ৩৮ রান। ১৫৩ রানে পড়ে চতুর্থ উইকেট। মমিনুল তার ইনিংস শেষ করেন ৭১ বলে ৩৪ রান নিয়ে। ব্যাট হাতে নামেন সাকিব আল হাসান। শেষ পর্যন্ত মুশফিক আর সাকিব বাংলাদেশকে নিয়ে যান বিজয়ের বন্দরে। সাকিবের চারের মারে ১৮১ থেকে বাংলাদেশ পৌঁছে ১৮৫ তে।
এর আগে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে অল আউট হয়ে গেছে ১৭২ রানে। প্রথম ইনিংসে ১২ রানের লিড (পাকিস্তান ২৭৪, বাংলাদেশ ২৬২) সহ তাদের সংগ্রহ ১৮৪। কাঙ্খিত জয় পেতে টাইগারদের লক্ষ্য ছিল ১৮৫। আলোকস্বল্পতা এবং বৃষ্টিতে ৪৬ ওভার বাকি থাকতেই শেষ হয়ে গিয়েছিল চতুর্থ দিনের খেলা।
টেস্ট ক্রিকেটের মহিমা এখানেই। ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়। তৃতীয় দিন রবিবার সকালে যে বাংলাদেশ চাপা পড়েছিল ধবংসস্তুপে, বিকেলে সেই বাংলাদেশ লড়াই করেছে বুক চিতিয়ে। মৃত্যুকূপ থেকে বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন লিটন দাস। করেছেন অনবদ্য ১৩৮ রান। তিনি প্রমান করছেন ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। লিটনের সঙ্গে ছিলেন আরেক অলরাউন্ডার সারথী- মেহেদী হাসান মিরাজ; তিনি করেছেন ৭৮ রান। দুজনে রেকর্ড ১৬৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন।
প্রথম ইনিংসে ২৬২ রানে অল আউট হয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক পাকিস্তানের চেয়ে ১২ রান পিছিয়ে থেকে শেষ হয় টাইগারদের ইনিংস। ২৬ রানে বাংলাদেশের ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ২৬২ পর্যন্ত টিকে থাকা এক অবিসংবাদিত যুদ্ধই বলা চলে। সেই যুদ্ধে আপাতত সফল বাংলাদেশের টেল এন্ডাররা। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭২ রানে অল আউটে অবশ্যই বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হবে। ভয় ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান কি করে তা নিয়ে। তবে তেমন কিছুই হয়নি। ১৭২ রানে অল আউট। চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৮৫। প্রায় দেড় দিন সময় ছিল হাতে, বড় কোনো সমস্যা হয়নি তাতে।
দ্বিতীয় টেস্টের উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলতে প্রথম ইনিংসে মিরাজের ৫ উইকট। ৩ উইকেট নিয়েছিলেন পেসার তাসকিন। সেঞ্চুরি নেই পাকিস্তানের কারো। ব্যাটিংয়ে ১৩৮ রান করেছিলেন লিটন দাস, মিরাজ করেছিলেন ৭৮ রান। পাকিস্তানের খুররম শাহজাদ নেন ৬ উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ৫ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। নাহিদা রানা পেয়েছিলের ৪ উইকেট। এদিন তাসকিন একটি উইকেট পেলেও স্পিনাররা পাননি কিছুই। ব্যাট হাতে।
প্রথম ইনিংসে অনবদ্য ১৩৮ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট ও ৭৮ রান নিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন মিরাজ। বলা চলে এই সিরিজে শূন্য হাতে থেকে গেলো স্বাগতিক পাকিস্তান।