দিনাজপুরের হিলিতে শ্রাবণ মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহে শুক্রবার (২৬ জুলাই) প্রচণ্ড রোদ আর গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। রোদের কারণে প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির থেকে বের হচ্ছেন না।
জীবিকার সন্ধানে যারা অটোবাইক বা রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন। তারাও যাত্রী না থাকায় অটোবাইক ও রিকশা শীতল জায়গা ও গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষেরা বলছেন, ছুটির দিন তাই রোদের কারণে কাজ ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। অনেকে সকাল সকাল বাজার করে বাড়িতে ঢুকে পড়েছেন। আর শ্রমজীবী মানুষেরা বলছেন, রোদ, গরম, বৃষ্টিতেও তাদের জীবিকার সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হতে হয়। কিন্তু যাত্রী কম হওয়ায় হতাশায় ভুগছেন তারা।
মধ্যবাসুদেবপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, ‘আমি বয়স্ক মানুষ। রোদের কারণে বাড়ি থেকে বের হচ্ছি না। ছেলেরা সকালে বাজার করে এনেছেন। আমার পক্ষে বাজারে যাওয়া সম্ভব না। শুধু জুমার নামাজের সময় হয়ে কষ্ট হলেও মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ে আসবো।’
পান-দোকানদার মো. বাবু হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে দোকান খুলে বসে আছি। রোদের কারণে ক্রেতা নেই। তার সঙ্গে প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। দোকানে বসে আছি ফ্যানের বাতাসে কাজ হচ্ছে না। সময় যতই বাড়ছে রোদের সঙ্গে গরমও ততই বাড়ছে।’
রিকশাচালক আব্দুল রহিম বলেন, ‘সকালে রিকশা নিয়ে বের হয়েছে। সকাল ১০ টা পর্যন্ত রোদের তীব্রতা কিছুটা কম ছিল। তখন কিছু যাত্রী পাই। যারা বাজারে করার জন্য বাজারে আসে। তারপর থেকে রিস্ক নিয়ে শুধু এ সড়ক সে সড়ক ঘুরছি। কিন্তু যাত্রী মিলছে না। দেখা যাক বিকেলে হয়তো রোদ কমলে কিছু যাত্রী হতে পারে। সেই আশায় গাছের নিচে বসে আছি।’
অটোবাইক-চালক মো. জালাল উদ্দিন ঢাকা বিজনেসকে বলেন, ‘আমাদেরও একই অবস্থা। অটো নিয়ে বিভিন্ন সড়কে টো টো করে ঘুরছি। কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। গরমের কারণে আমরাও নাকাল হয়ে পড়েছি।’
জালাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল অটো নিয়ে বের হলেই দূরের রিজার্ভ পাওয়া যায়। কিন্তু এখন মানুষ রোদ আর গরমের কারণে দরকার ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। তারপরও বিকেল পর্যন্ত দেখি। অটোতে চার্জ দেওয়া বিদ্যুৎ বিল তোলা যায় কি না।’