চলতি বছরে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ছোট-বড় ১৪২ হাওরে বোরোধানের চাষ করা হয়েছে। এসব ধানক্ষেতে কয়েকদিনের মধ্যেই সোনালি রঙ ধারণ করবে। এরপরই ধান কাটা শুরু করবেন কৃষকেরা। সব মিলিয়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বোরোর বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার জেলায় বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি। তবে, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষাবাদ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪০৭ হেক্টর জমিতে। যার মধ্যে হাওরে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬১ হেক্টর ও নন হাওরে ৫৮ হাজার ৪৬ হেক্টর। হাওর ও নন-হাওর মিলে হাইব্রিড জাতের ধান ৬৫ হাজার ১০৩ হেক্টর, উফশী জাতের ধান ১ লাখ ৫৭ হাজার ১১১ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ১ হাজার ১৯৩ হেক্টর আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে বোরো ফসল দিয়ে জাতীয় খাদ্য চাহিদার ১২ থেকে ১৩ দিন পূরণ করা হয়। সুনামগঞ্জের হাওর থেকে এবার ১৩ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ধান এবং চালের হিসাবে ৯ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন চাল পাওয়া যাবে।
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭ ইউনিয়নে ১৭ হাজার ৩৯৩ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ৮০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চাল উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য ২৪৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি। জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ধান উৎপাদনের দিক থেকে তাহিরপুর উপজেলা শীর্ষে রয়েছে।
উপজেলার বৃহত্তর শনি হাওরের কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এই বছর সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় ফলন ভালো হয়েছে। ধানের শীষ বের হওয়া প্রায় শেষ, এখন শুধু ধান পাকার অপেক্ষায়। ঠিকমতো ধান কাটতে পারলেই নিশ্চিন্ত থাকতে পারবো।’
মাটিয়ান হাওরে কৃষক ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘হাওরে ধান কাটা কিছুদিনের মধ্যে শুরু হবে, অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো ফসল হয়েছে।’
মহালিয়া হাওরের কৃষক দ্রিপেন্দ্র দাস বলেন, ‘পরপর কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতের কারণে ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ফসল রক্ষা বাঁধের জেলা বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘সার্বক্ষণিক হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে দ্রুত ধান কাটা সম্পন্ন হবে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বলেন, ‘অন্য বছরের চেয়ে এই বছর বোরো ধানের উৎপাদন বেশি হয়েছে। হাওর-নন হাওর মিলে এবার ২৪২ হেক্টর বেশি চাষ হয়েছে। প্রকৃতি অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছি আমরা। এপ্রিলের প্রথম দিকে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হবে।’
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই বছর বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হবে।’
ঢাকা বিজনেস/এনই