০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার



৫ বছরে জিইভি আক্রান্ত ৩৮৮, রেড জোনে রাজশাহী

রাজশাহী সংবাদদাতা || ০৯ জানুয়ারী, ২০২৩, ১০:০১ পিএম
৫ বছরে জিইভি আক্রান্ত ৩৮৮, রেড জোনে রাজশাহী


এখনো শুকায়নি করোনার ক্ষত। এর ভেতরেই চোখ রাঙাচ্ছে জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভাইরাস (জিইভি)। দেশে গত ৫ বছরে মশাবাহিত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৮ জন মানুষ। এর মধ্যে গত ৪ বছরে ৭৯ জনের প্রাণ নিয়েছে জিইভি। গবেষকরা জানান, জিইভি সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে রাজশাহী জেলা। রেড জোনে থাকা জেলায় ভাইরাসটি প্রতিরোধে কাজ করছে কয়েকটি সংস্থা।

সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাজশাহী নগরীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। নগরীর এক রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ কর্মশালায় সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিরআর, বি) ও বেসরকারি সংস্থা পাথ।

স্বাস্থ্য দপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. আনোয়ারুল কবীর, ইপিআই ও সার্ভিলেন্সের ডেপুটি পরিচালক ডা. জেসমিন আরা খানম, এমএনসিএন্ডএইচ‘র প্রাক্তন পরিচালক ডা. মো. শামসুল হক, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার ডা. শারমিন সুলতানা, পাথের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ডা. কামরান মেহেদি প্রমুখ।

কর্মশালায় জানানো হয়, মূলত কিউলেক্স মশার কামড়ে ছড়ানো জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে দেশের ৩৬ জেলায়। সংক্রমণে এগিয়ে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ। গতবছর সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী বিভাগে।

এ বিভাগের রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক। মে থেকে ডিসেম্বর মাসে বেশি সংক্রমণ হওয়া এ ভাইরাসে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে শিশুরা। মশার বংশবৃদ্ধি হওয়া এলাকায় এ ভাইরাসের বেশি সংক্রমণ হয়ে থাকে।

কর্মশালায় গবেষকরা জানান, গত ১০ বছরের পরিসংখ্যানে রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাজশাহী বিভাগে শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ। সবচেয়ে কম আক্রান্ত বিভাগ বরিশাল ও সিলেট বিভাগ। এ দুই বিভাগে আক্রান্ত হন মাত্র এক শতাংশ রোগী। এ পরিসংখ্যানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ ও ৯ শতাংশ রোগী আক্রান্ত হন।

ইপিআই শিডিউলের আওতায় এ ভাইরাসের টিকা অন্তর্ভুক্তির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে চিকিৎসকরা জানান, ২০১৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ভাইরাসের টিকা অনুমোদন দিয়েছে। আগামী বছর বাংলাদেশে সেই টিকা আসবে। প্রাথমিকভাবে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের চারটি জেলায় জিইভি টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সবার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সব ধরনের সংকট মোকাবিলা করার আহবানও জানান চিকিৎসকরা।

ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, ‌‘জাপানিজ এনকেফালাইটিস ভাইরাসকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নির্দেশনা মোতাবেক মাঠ পর্যায়ে আমরা কাজ করবো। বিভাগের সিভিল সার্জনরা প্রস্তুত রয়েছেন।’

ফেরদৌস/এইচ 



আরো পড়ুন