০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার



বিশেষ প্রতিবেদন
প্রিন্ট

সামনে ঈদ, তবু সংকটে জুতা ব্যবসায়ীরা

আজহার উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া || ০৮ এপ্রিল, ২০২৩, ০৬:৩৪ এএম
সামনে ঈদ, তবু সংকটে জুতা ব্যবসায়ীরা


করোনার সংকট কাটিয়ে গেলো বছর কিছুটা ভালো আয় করেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জুতা ব্যবসায়ীরা। তবে এবার ভরা মৌসুমেও নতুন করে সংকটে এই শিল্প। বৈশ্বিক অথনৈতিক মন্দা আর জুতা তৈরির উপকরণের মূল্য বাড়ার কারণে উৎপাদন কমেছে অন্তত অর্ধেক। ব্যবসায়ীরা জানান, এবার ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কারখানাগুলো থেকে বাজারজাত হবে ১২ কোটি টাকার জুতা। যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেক। আবার এসব জুতাও সম্পূর্ণ বিক্রি হবে কিনা- তা নিয়ে শঙ্কা তাদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পবিত্র শবে-বরাত থেকে ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত জুতার ব্যবসার মূল মৌসুম ধরা হয়। বছরের এ সময়টাতে সবকটি জুতার কারখানা থাকে কর্মব্যস্ত। মৌসুমে বড় কারখানাগুলো প্রায় ১ কোটি টাকার জুতা এবং ছোট কারখানাগুলো ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার জুতা বাজারজাত করে থাকে। মূলত মৌসুমের লাভ দিয়েই সারাবছরের ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নেন ব্যবসায়ীরা।

করোনার কারণে গত ২০২০-২১ সালে তেমন ব্যবসা করতে পারেনি জুতার কারখানাগুলো। ওই দুই বছর কারখানার খরচ এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতেই হিমশিম খেতে হয়েছে মালিকদের। পরবর্তী সময়ে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় গত বছর ঘুরে দাঁড়ায় এই শিল্প। ওই বছর ঈদুল ফিতরে বাজারজাত করা হয় প্রায় ২৫ কোটি টাকার জুতা।


এবারের ঈদ মৌসুমেও ভালো ব্যবসা হওয়ার আশা করেছিলেন কারখানা মালিকরা। তবে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা। এর সঙ্গে বাড়তি চাপ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জুতা তৈরির উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি। ফলে এবার তাদের কাঙ্ক্ষিত বেচাকেনা যেমন হচ্ছে না, তেমনি উৎপাদন কমায় শ্রমিকদের হাতেও কাজ কমেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর জুতা তৈরিতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল প্রতি লিটারের দাম ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, এবার সেই কেমিক্যালের দাম ৩৫০ টাকা। ২২০০ টাকা দামের পেস্টিং এখন কিনতে হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩২০০ টাকায়। এছাড়া ফোমসহ জুতা তৈরিতে ব্যবহৃত সব উপকরণেরই দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কারখানা মালিকরা। কিন্তু সে অনুযায়ী জুতার দাম বাড়াতে না পারায় বাধ্য হয়ে এবার উৎপাদন কমানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের অ্যাক্টিভ ফুটওয়্যারের শ্রমিক মো. সেলিম জানান, সারাবছর কাজ যেমনই থাকুক, রোজার মাসে দম ফেলারও সুযোগ থাকে না তাদের। এ সময় অতিরিক্ত কাজ করে ভালো টাকা আয় করেন তারা। তবে এবার উৎপাদন কমায় কাজ কমেছে। ফলে আগে তিনি ঈদ মৌসুমে কাজ করে ৩৫-৪০ হাজার টাকা আয় করলেও এবার তা অর্ধেকে নেমে আসবে বলে জানান তিনি।


ওবিআই ফুটওয়্যারের স্বত্বাধিকারী আমির সোহেল বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে আমাদের ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এ সময়টাতে দিনে ৪-৫ লাখ টাকার জুতা বিক্রি হতো, অথচ এখন লাখ টাকার জুতাও বিক্রি করা যাচ্ছে না।’

অ্যাক্টিভ ফুটওয়্যারের পরিচালক স্বত্বাধিকারী রাকিবুর রহমান জানান, প্রত্যেক ঈদুল ফিতরকে ঘিরে তাদের কারখানা থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার জুতা বাজারজাতের লক্ষ্য থাকে। গত বছর লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জিত না হলেও কাছাকাছি ছিল। তবে এবার সার্বিকভাবে কারখানার উৎপাদন কমানো হয়েছে। ফলে এবারের মৌসুমে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার জুতা বিক্রির আশা করছেন তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিও ফুটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ বলেন, ‘বাজারে চাহিদা বিবেচনা করে আমরা জুতা উৎপাদন করি। এবার সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সবকটি কারখানায় জুতার উৎপাদন কমানো হয়েছে। এবার আমরা ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার জুতা বাজারজাত করার আশা করছি। তবে উৎপাদিত সব জুতা বিক্রি হবে কিনা- তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এবারও আগের দামেই জুতা বাজারজাত করতে হচ্ছে। তবে জুতা তৈরির উপকরণের দাম যদি না কমে, তাহলে আগামী বছর জুতার দাম বাড়ানো হবে। এছাড়া এই শিল্প টিকে থাকা দায় হয়ে পড়বে।’

ঢাকা বিজনেস/এইচ



আরো পড়ুন