০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার



শেরপুরে ভয়াবহ বন্যা, মৃত্যু বেড়ে ৭

শেরপুর প্রতিনিধি || ০৬ অক্টোবর, ২০২৪, ১২:১০ পিএম
শেরপুরে ভয়াবহ বন্যা, মৃত্যু বেড়ে ৭


টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ৫ উপজেলার দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত ৩৫ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির কবলে পড়েনি জেলার বাসিন্দারা। বন্যায় এ পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে ঘর, আসবাবপত্র, গবাদিপশু। পানির সঙ্গে বাড়ছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।

ঝিনাইগিতী উপজেলার ফাকরাবাদ এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম জানান, ‘৮৮ সনের পর এমন বন্যা দেখলেন তিনি। তার ধারণা এবারের ২০২৪ সালের বন্যা আরও বেশি ভয়াবহ। এবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় কিনা, সেই চিন্তায় আছেন তিনি। 

রোববার (৬ অক্টোবর) নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও নিম্নাঞ্চলের অন্তত ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। 

নালিতাবাড়িতে সড়ক ভেঙে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নতুন করে শেরপুর সদর ও নকলা উপজেলার আরও ৬টি ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বন্যার কারণে অনেকের বাড়ি-ঘর পানিবন্দি হয়েছে।

এ পর্যন্ত শেরপুরের ৫টি উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের ২ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন দেড় লাখেরও বেশি মানুষ। 

ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সব সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৩৫ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেনি স্থানীয়রা।

এর মধ্যে মহারশীর বাঁধ ভেঙে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের ঝিনাইগাতী, রামেরকুড়া, খৈলকুড়া, বনকালি, চতল ও আহম্মদ নগর, ধানশাইল ইউনিয়নের ধানশাইল, বাগেরভিটা, কান্দুলী, বিলাসপুর ও মাদারপুর এবং কাংশা ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর চরণতলা, আয়নাপুর, কাংশাসহ প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে বানভাসি মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

শনিবার (৫ অক্টোবর) দিনভর স্পিডবোট, নৌকা, ভেলা, টিউব ইত্যাদি নিয়ে চলে বন্যায় আটকেপড়াদের উদ্ধার অভিযান। এছাড়া শুকনা খাবারসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে বানভাসিদের মাঝে। এসব কাজে অংশ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

গতকাল সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছিল, পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরী, কর্ণঝোড়া, মহারশী, ভোগাই ও চেল্লাখালীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে।

এদিকে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি মানুষের সংখ্যা আরও বাড়ছে। ৩ উপজেলায় এখনো অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন আবাদ, মাছের ঘের ও সবজি আবাদ।

কৃষি বিভাগ জানায়, বন্যার পানিতে অন্তত ২০ হাজার হেক্টর আমন আবাদ এবং দেড় হাজার হেক্টর সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৫০ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানিয়েছেন, জেলার তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫ জন। দুর্গতদের উদ্ধারে শুকনো খাবার পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।

নতুন নতুন যেসব এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আমরা তার খোঁজ-খবর নিচ্ছি। পাশপাশি ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণেও কাজ করা হচ্ছে।




আরো পড়ুন