০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার



চুয়াডাঙ্গায় ঝরে পড়ছে আমের গুটি, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা || ১১ এপ্রিল, ২০২৩, ০৯:৩৪ এএম
চুয়াডাঙ্গায় ঝরে পড়ছে আমের গুটি, দুশ্চিন্তায় চাষিরা


দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। রোববার (২ এপ্রিল) থেকে টানা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে এ জেলায়। এতে জেলায় আমের গুঁটি ঝরে পড়ছে বলে জানিয়েছেন বাগান মালিকরা। 

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা। এ জেলায় টানা ৯ দিন ধরে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হচ্ছে।  একইসঙ্গে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে টানা ৮ দিন ধরে। তাপপ্রবাহ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, চলমান তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে অতীতের রেকর্ড ভাঙতে পারে। 

এই কর্মকর্তা আরও জানান, এই বছর বৃষ্টি নেই বললেই চলে। চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো বৃষ্টি হয়নি। মার্চে মাত্র ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এপ্রিলে এখন পর্যন্ত কোনো বৃষ্টি হয়নি। আপাতত সম্ভাবনাও নেই।


স্থানীয় আমচাষিরা জানান, তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টির কারণে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে প্রচুর মুকুল আসে। গুটিও এসেছে প্রচুর। কিন্তু বৃষ্টির অভাবে ঝরে যাচ্ছে এসব গুটি।  কোনোভাবে ঝরেপড়া রোধ করা যাচ্ছে না।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ জেলায় চলতি বছর আমের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ১৯১ হেক্টর জমি। এর মধ্যে চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৭৪ হেক্টর বেশি। এ সব জমিতে আমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১৬০ কোটি টাকা।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আমচাষি ইকরামুল হক বলেন, ‘এ বছর কোনো বৃষ্টিই নেই। অনাবৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন  বাড়ছে তাপমাত্রাও। তাপদাহের কারণে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। আমগাছে সেচ দেওয়া হচ্ছে। তবু গুটি ঝরে পড়া ঠেকানো যাচ্ছে না। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত আম নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হবে আমাদের।’


আম ব্যবসায়ী শমসের আলী বলেন, ‘আমের মুকুল দেখে ৩টা বাগান কিনেছিলাম। প্রচুর পরিমাণ গুটিও এসেছে এই বছর। কিন্তু প্রচণ্ড তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। সেচ দিয়ে আমের গুটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু এত তাপদাহের কারণে কোনোভাবেই রক্ষা করা যাচ্ছে না।’

আমচাষি ও ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এই বছর আমের মুকুল ও গুটি এসেছে প্রচুর। গত বছর শিলাবৃষ্টি হওয়ায় প্রচুর ক্ষতি হয়েছিল। আশা করেছিলাম, এই বছর সেই ক্ষতি পুষিয়ে যাবে। কিন্তু এই বছর তীব্র তাপদাহ ও অনাবৃষ্টির কারণে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে।  পানি দিয়ে ঝরেপড়া রোধ করার চেষ্টা করছি। তবু ঝরে যাচ্ছে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে আমগাছে প্রচুর পরিমাণ মুকুল ছিল। আর গুটিও এসেছে অনেক। এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপদাহ। রোদের উত্তাপ ও গরমের কারণে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। এখন পর্যন্ত আমে যে গুটি রয়েছে, তাও ধরে রাখতে পারলে বাগানমালিকরা ভালো ফলন পাবেন। বৃষ্টি হয়ে গেলে এ সমস্যা থাকবে না।’


চাষি ও ব্যবসায়ীদের আমগাছে পানি সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিভাস চন্দ্রসাহা বলেন, ‘যে ক’দিন বৃষ্টি না হবে, সেই ক’দিন আমবাগানে খুব ঘন ঘন সেচ দিতে হবে। প্রয়োজনে বড় বড় গর্ত করে পানি ধরে রাখতে হবে গাছের পাশে। তাতে কিছুটা রস ধরে থাকলে গুটি ঝরেপড়া ঠেকানো যাবে। একইসঙ্গে বোরন, দস্তা ও জিংক জাতীয় যে ওষুধ পাওয়া যায়, সেগুলোও গাছে দিতে হবে। তাহলে কিছুটা সমাধান হবে।’ 

ঢাকা বিজনেস/এইচ



আরো পড়ুন