০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার



পরচুলা তৈরি করেই স্বাবলম্বী হাজার নারী

আনোয়ার হোসেন বুলু, হিলি (দিনাজপুর) || ০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ০৩:০২ পিএম
পরচুলা তৈরি করেই স্বাবলম্বী হাজার নারী


দিনাজপুরের হিলির পরচুলা তৈরির কারখানায় প্রায় এক হাজার নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। হিলির বোয়ালদাড়, গোহাড়া, হরিহরপুর, ডাঙ্গাপাড়া, পালিবটতলী গ্রামে ছোট বড়মিলে গড়ে উঠেছে ৪০টি পরচুলার কারখানা।  এসব কারখানায় কাজ করে মাসে আয় করছেন ৬ প্রায় ১২ হাজার টাকা।  রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন পরচুলা তৈরির কারখানা ঘুরে কর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। 

হরিহরপুর পরচুলা তৈরির কারখানার নারীকর্মী মোছা. সুলতানা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী কৃষি কাজ করেন। স্বামীর আয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হতো। তাই আমি এই কারখানায় মাসিক ৬ হাজার টাকা বেতনে চুল পরিষ্কারের কাজ করি। এতে আমাদের সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।’ 


বোয়ালদাড় গ্রামের কারখানার কর্মী মোছা. পারভিন আক্তার বলেন, ‘বাড়ির পাশে পরচুলা তৈরির কারখানা। তাই এখানে নারীদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। আমি চুল পরিষ্কারের কাজ করি। বাড়ির সাংসারিক কাজ, সন্তানদের দেখভাল করার পাশাপাশি এখানে  কাজ করে সংসারে অর্থের জোগান দিচ্ছি। এখানে যে কর্মীর হাত যেমন চলে, তার বেতনও তেমন হয়। কেউ মাসে ৫ হাজার আয় করে। আবার কেউ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারে।’ 

গোহাড়া গ্রামে পরচুলা তৈরির কারখানার কর্মী নির্মলা কিসপাট্টা বলেন, ‘আমি এই কারখানায় পরচুলা তৈরির কাজ করি। প্রতিটি পরচুলা তৈরিতে ১ হাজার ২০০ টাকা মজুরি পাই। একটি পরচুলা তৈরি করতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগে। আমার মাসিক কোনো বেতন নেই। যে কয়টি পরচুলা তৈরি করি, তারই মজুরি পাই। এতেই প্রতিমাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় হয়।’ 



একটি হেয়ার ক্যাপ কারখানার ম্যানেজার মো. মামুন হোসেন বলেন, ‘আমাদের কারখানায় দুই শ্রেণির শ্রমিক কাজ করেন। আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুল কিনে এনে একশ্রেণির কর্মীদের দিয়ে প্রথমে পরিষ্কার করিয়ে নেই। আর একশ্রেণির কর্মীরা পরচুলা তৈরি করেন। এখানকার তৈরি পরচুলা দেশের বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করা হয়। এছাড়া বিদেশেও রপ্তানি করা হয়।’

বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সদরুল ইসলাম ঢাকা বিজনেসকে বলেন, ‘এই এলাকায় পরচুলা তৈরির কারখানা তৈরি হওয়ায় এলাকার নারীদের আর ঢাকায় গার্মেস্টসমুখী হতে হচ্ছে না। আরও কারখানা গড়ে উঠলে বেশি করে নারীদের কর্মসংস্থানে সৃষ্টি হবে। সেজন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।’

ঢাকা বিজনেস/এনই/ 



আরো পড়ুন