০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার



ইমান-আমলের বয়ানে চলছে ইজতেমা

স্টাফ রিপোর্টার || ১৪ জানুয়ারী, ২০২৩, ০২:০১ পিএম
ইমান-আমলের বয়ানে চলছে ইজতেমা


ধর্মীয় বয়ানে মুখরিত টঙ্গীর তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। লাখো মুসল্লির মুখে আল্লাহ-আল্লাহ ধ্বনি। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বিভিন্ন ভাষায় নসিহত। দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা আলেমরা বিভিন্ন বিষয়ে বয়ান করছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, লাখ লাখ মানুষের জমায়েতকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা রয়েছে টঙ্গী। সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা সেবায়ও নেই কোনো ত্রুটি। 

বক্তারা বলেন, যারা দুনিয়াতে দ্বীনের ওপর চলবে, ঈমানকে সুন্দর ও মজবুত করবে, আমলকে সুন্দর করবে, আল্লাহ তা’য়ালা তাদেরকে কামিয়াবি দান করবেন। ঈমান ও আমল ছাড়া দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব হওয়া যাবে না। ঈমান আমলের পাশাপাশি নামাজকে সুন্দর করতে হবে। 

তারা আরও বলেন, আল্লাহকে পেতে হলে নামাজ পড়তে হবে। জাহান্নাম থেকে বাঁচতে এবং জান্নাত লাভের মাধ্যম হলো নামাজ। দিনে ৫ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে কথা বলা হয়। পরকালে শান্তি পেতে চাইলে ভালো আমল করতে হবে। এদিকে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মনোযোগ দিয়ে ঈমান, আখলাক ও দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ের নসিহত শোনেন।

আজ প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিনের মতো ফজরের নামাজের পর থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব ইজতেমার বয়ান। কানায় কানায় পূর্ণ মাঠ। সর্বস্তরের মসল্লিদের মধ্যে একটি উৎসব বিরাজ করছে। জীবনের সব পাপ থেকে ক্ষমা ও পুণ্যের শুকরিয়া আদায়ের একটি সুযোগ বলে মনে করছেন মুসল্লিরা। এর আগে শুক্রবার (১৩ জানুয়ারি) ফজরের নামাজের পর পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হকের আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্ব। 

ইজতেমায় আগত মুসল্লি রুবেল হোসেন বলেন, ‌‌‘গতকাল জুমার নামাজ পড়তে মাদারীপুর থেকে এসেছি। ভালো লেগেছে নামাজ পরে। দিনের বেলা ইজতেমার মাঠে থাকি, রাতে পাশেই ভাইয়ের বাসা সেখানে গিয়ে থাকি।’

বৃদ্ধ মুসল্লি জয়নাল বলেন, ‘এখানে আসলে অন্তত ধর্মপ্রাণ মানুষ দেখতে পাই। তাই সবসময় আসতে চেষ্টা করি। আর এবার কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি। ভাগে ভাগে ইজতেমা হলেই ভালো।’ 

আগামীকাল রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বলে ইজতেমা আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। এর আগে হেদায়েতি বয়ান করা হবে। বাংলাদেশের হাফেজ মাওলানা জুবায়ের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন। 

মোনাজাতে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হবে। আখেরি মোনাজাতে প্রায় ২৫-৩০ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নিবেন বলে আয়োজকদের ধারণা। ইজতেমার প্রথম পর্বে শিল্প নগরী টঙ্গী ইতোমধ্যেই ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে।

এদিকে, ইজতেমাকে কেন্দ্র করে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জিএমপি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলাসহ সব কিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১০ হাজার পুলিশ কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটবে না। নিরাপদে সবাই ইজতেমার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। 

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে মুসল্লিদের নিরাপদ অবস্থান ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইজতেমায় অতিরিক্ত দামে কম্বল বিক্রি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গতকাল ১৪ ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন অংকের টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মেডিক্যাল ক্যাম্প চালু করেছে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষ। ইজতেমা ময়দানের উত্তর পাশে মন্নু টেক্সটাইল মিলস-সংলগ্ন নির্ধারিত স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র এলাকায় ইবনে সিনার এ মেডিক্যাল ক্যাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ইজতেমা মাঠ সংলগ্ন এলাকায় চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। চিকিৎসা কেন্দ্রে মুসল্লিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। মুসল্লিদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাসহ গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য পোর্টেবল অক্সিজেন, নেবুলাইজেশন ও অন্যান্য চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইজতেমায় আগত দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লির সার্বক্ষণিক চিকিৎসা, ওষুধপত্র সরবরাহে স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে অস্থায়ী ৬টি কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়োজনে জরুরি অ্যাম্বুলেন্সের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। অস্থায়ী ৬টি কেন্দ্রগুলো হলো হোন্ডাগেট ১টি, বাটা গেট ১টি, মন্নুগেট ১টি, তুরাগ নদীর পশ্চিম তীরে ২টি এবং প্রতি বছরের ন্যায় বিদেশি মেহমানদের জন্য ১টিসহ মোট ৬টি অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালকে রাখা হয়েছে। এদিকে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে তুরাগ নদীর উত্তর পাশে এবং রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় দক্ষিণ পাশে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে।

ইজতেমা উপলক্ষে ১৬৫ একর জমিতে শামিয়ানা টানিয়ে মুসল্লিদের জন্য জায়গা করা হয়েছে। ময়দানের উত্তর-পশ্চিম পাশে বিদেশি মুসল্লিদের কামরার পাশে করা হয়েছে মূল মঞ্চ। সেখানে বৃহস্পতিবার বাদ জোহর মাওলানা রবিউল হক ইমান ও আমলের বয়ান করেন। করোনা মহামারি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দুই বছর হয়নি ইজতেমা। এবার মুসল্লিদের জমায়েতে আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ঢাকা বিজনেস/এম



আরো পড়ুন