‘ফ্যাটি লিভার’ হলে কী খাবেন
ঢাকা বিজনেস ডেস্ক ||
০৭ জানুয়ারী, ২০২৩, ০৩:০১ পিএম
শরীরে অতিরিক্ত ওজন যেন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ওজন বেড়ে যাওয়ায় শরীরে যেসব সমস্যা দেখা দেয়। ফ্যাটি লিভার তার মধ্যে অন্যতম। এছাড়া ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, থাইরয়েডের মতো হরমোনজনিত নানা অসুখেও ফ্যাটি লিভারের প্রবণতা বাড়ে। সময়মতো ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা করা প্রয়োজন। না হলে লিভার সিরোসিসও হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এই তিনটির মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে জরুরি। এ কারণে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হলে খাওয়াদাওয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কিছু কিছু খাবার আছে, যেগুলো ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। এতে করে কিছুটা উপকার পাবেন আক্রান্ত ব্যক্তি। কিছু খাবারের তালিকা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।
মাছ
কথায় আছে, 'মাছে-ভাতে বাঙালি'। শুধু বাঙালিদের কাছেই নয়, অন্যান্য দেশেও মাছ জনপ্রিয় খাবার। স্যামন, টুনা ও সার্ডিনের মতো সামুদ্রিক মাছে থাকা ওমেগা থ্রি লিভার সুস্থ রাখে, কোষে জমে থাকা চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা কমাতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্টও নিতে পারেন।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সমৃদ্ধ ফল। এই ফলটি লিভারের পৃষ্ঠে অস্বাস্থ্যকর চর্বি জমতে দেয় না। অ্যাভোকাডোয় গ্লাইসেমিক সূচকও কম। এ কারণে এই ফল লিভার থেকে টক্সিন অপসারণ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়াও অ্যাভোকাডোয় উচ্চ ফাইবার থাকার কারণে বিপাকক্রিয়াও ভালো হয়, ফলে ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
গ্রিন টি
গ্রিন টি সবার কাছেই অতি পরিচিত নাম। ওজন কমাতে গ্রিন টি-র জুড়ি নেই। গ্রিন টি শরীরকে চর্বি শোষণে সাহায্য করে। লিভারে চর্বি জমা কমায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করে।
রসুন
রান্নাঘরের অতি প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। গবেষণা অনুসারে, রসুন লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে লিভারে ক্ষতিকারক চর্বি জমা হয় না। রসুনে অনেক প্রাকৃতিক যৌগ থাকায় এটি শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজকেও বাড়িয়ে তোলে।
বাতাবি লেবু
বাতাবি লেবু লিভারের ক্ষতি সারাতে সাহায্য করে। এতে থাকা উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে সব বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। ফলে কোষগুলিকে রক্ষা করে এবং লিভারের ক্ষতি হতে দেয় না।
কফি
সকালে ঘুম ভাঙলেই প্রয়োজন এক কাপ কফি। কিন্তু কফি ফ্যাটি লিভারের জন্যও খুবই উপকারী। লিভারের কোষগুলির ক্ষতি করে এমন এনজাইমগুলি অপসারণ করে কফি। দিনে দুই কাপ কফি খাওয়া বেশ সহায়ক হতে পারে।
অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। ওমেগা থ্রি লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে বেশ কার্যকর। এই তেল শরীরে জমা চর্বির পরিমাণ কমায় এবং ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
/ঢাকা বিজনেস/এন/
শেয়ার করুন