ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) বন্ধ থাকায় গত বুধবার (১৬ মার্চ) থেকে দিনাজপুরের হিলিবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ বন্ধ রয়েছে। এতে বন্দরে দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। কৃষকেরাও পাচ্ছেন ন্যায্যমূল্য। ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মনে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে, স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।
হিলিবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় রোজায় মাসে দেশে পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠতে পারে। কারণ রোজায় মাসে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। গত ১৫ মার্চের আগে প্রতিকেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে। আর মঙ্গলবার ( ২১ মার্চ) বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে ২৮ টাকা। খুচরা বাজারে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’
হিলি বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রিতা মো. মোকারম হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি দেশি হালি পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারে দেশি হালি পেঁয়াজ খুচরা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আমরা পাইকারি প্রকারভেদে ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে কিনে খুচরা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এই দেশি হালি পেঁয়াজ ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের আগে ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে।’
ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘আমদানি বন্ধ থাকায় ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৬ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে। ১৫ মার্চের আগে ভারতীয় পেঁয়াজ ২০ থেকে ২২ টাকা কেজিদরে বিক্রি হলেও আজ ( ২১ মার্চ) বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে টাকা কেজি দরে। আমরা পাইকারি ২৮ টাকা কেজি দরে কিনে ৩০ টাকা কেজিদরে বিক্রি করছি।’
উপজেলার বৈগ্রামের পেঁয়াজ চাষী মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর যখন দেশি পেঁয়াজ বাজারে ওঠে। তখন ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি চালু থাকায় উৎপাদন খরচ ওঠানো সম্ভব হতো না। এখন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দাম একটু বেশি পাচ্ছি। রমজান মাস পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ না এলে কৃষকরা একটু লাভের মুখ দেখতে পারবেন। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তে আমরা খুশি।’
হাকিমপুর কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা ঢাকা বিজনেসকে বলেন, ‘এই উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ তুলনামূলক কম হয়। তবে চলতি রবি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলার ১ পৌরসভাসহ ৩ ইউনিয়নে ৪৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো। আগামী মৌসুমে পেঁয়াজের চাষ আরও বাড়তে পারে।’
পানামা হিলি পোর্ট-সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মার্চের পর এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকবে।
ঢাকা বিজনেস/এনই/