০৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার



বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নপূরণে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধান উপদেষ্টা

ঢাকা বিজনেস ডেস্ক || ২৫ আগস্ট, ২০২৪, ০৫:৩৮ পিএম
বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নপূরণে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ:  প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুাহম্মদ ইউনূস (ছবি: বাসস)


বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্নপূরণে অঙ্গীকার ব্যক্ত করে দেশবাসীকে ছাত্র-জনতার স্বপ্নপূরণে সমস্ত শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন, শোষণহীন, কল্যাণময় এবং মুক্ত বাতাসের রাষ্ট্রের যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র জনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই স্বপ্নপূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ। আপনাদের সবাইকে এই শুভ লগ্নে আদের স্বপ্নপূরণে সমস্ত শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’ রোববার (২৫ আগস্ট) জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, ‘ছাত্র-জনতার স্বপ্ন আমাদের স্বপ্ন। জাতীয় জীবনে তরুণরা একটি মহা সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।’ সবাইকে এই সুযোগ ব্যবহার করার কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সমগ্র বাংলাদেশ একটি পরিবারের মতো উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণরোষের মুখে ফ্যাসিবাদী সরকার প্রধান দেশ ত্যাগ করার পর আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মানবাধিকার থাকবে পুরোপুরি সুরক্ষিত। আমাদের লক্ষ্য একটিই। উদার, গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ।

‘আমরা এক পরিবার, আমাদের এক লক্ষ্য’ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো ভেদাভেদ যেন আমাদের স্বপ্নকে ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করার মাত্র দুই সপ্তাহ শেষ হলো। আমরা অনুধাবন করছি যে আমাদের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা অনেক। এ প্রত্যাশা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। শুধু বলবো আপনাদের একটু ধৈর্য ধরতে হবে।’

সরকারের সামনে পবর্তসম চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দীর্ঘদিনের গণতন্ত্রহীনতা, ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী  শাসন ব্যবস্থা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের জন্য পর্বতসম চ্যালেঞ্জ রেখে গিয়েছে। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণে আমরা প্রস্তুত।’ 

অধ্যাপক ইউনূস দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, ‘এখনই সব দাবি পূরণ করার জন্য জোর করা, প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যক্তিবিশেষকে হুমকির মধ্যে ফেলা, মামলা গ্রহণের জন্য চাপ সৃষ্টি করা, বিচারের জন্য গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে হামলা করে আগেই এক ধরনের বিচার করে ফেলার যে প্রবণতা, তা থেকে বের হতে হবে। ছাত্র জনতার বিপ্লবের গৌরব ও সম্ভাবনা এসব কাজে ম্লান হয়ে যাবে, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টাও ব্যাহত হতে পারে।’



আরো পড়ুন