০৪ এপ্রিল ২০২৫, শুক্রবার



অর্থনীতি
প্রিন্ট

এস আলমদের সব শেয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে: গভর্নর

ঢাকা বিজনেস ডেস্ক || ২১ আগস্ট, ২০২৪, ০৯:৩৮ এএম
এস আলমদের সব শেয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে:  গভর্নর


ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’তে সাইফুল আলম মাসুদ, তার পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সব শেয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে যে ঋণ নিয়েছে, তা পরিশোধ করলেই কেবল এই শেয়ার তাদেরকে ফেরত দেওয়া হবে। নইলে এসব শেয়ার বিক্রি করে ঋণের আংশিক সমন্বয় করা হবে। বুধবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান মনসুর এই তথ্য জানিয়েছেন।

গভর্নর জানিয়েছেন, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে। বর্তমানে এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্টদের বাইরে কোনো শেয়ারহোল্ডারের কাছে ২ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার নেই। আগামীতে যাদের কাছে ন্যুনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকবে, তাদেরকে পর্ষদে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। তার আগে সাময়িক সময়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে পর্ষদ সদস্যের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলে নেয় এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির মালিকানা নেওয়ার পর থেকে নামে-বেনামে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। ব্যাংকটির শেয়ারের ৮২ শতাংশের মালিকানা রয়েছে এস আলমের হাতে। এরই মধ্যে এস আলমের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিএসইসি।

ইসলামী ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া টাকা এখন আদায় করা যাচ্ছে না, ফলে ব্যাংকটি তারল্যসংকটে ভুগছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাহিদামতো তারল্য জমা রাখতে না পেরে ব্যাংকটি প্রতিদিন জরিমানা দিচ্ছে। আবার একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার নিজের বিশেষ ক্ষমতাবলে ‘টাকা ছাপিয়ে’ দেড় বছর ধরে ব্যাংকটিকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন; কিন্তু ব্যাংকটির খারাপ অবস্থার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে গত সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দিয়েছেন ব্যাংকটির শতাধিক কর্মকর্তা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ ও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্যাংকের তহবিল লুটপাটের যে তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, বাস্তব অবস্থা এর চেয়েও ভয়াবহ। দীর্ঘদিন লুটপাটের ধারা অব্যাহত থাকার কারণে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাংকটির প্রতি গণমানুষের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। এ জন্য তাঁরা দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানান।

এতে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার, ব্যাংকের সব অংশীদারদের স্বার্থ রক্ষা, তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে হবে। এ ছাড়া সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত, ইসলামী ব্যাংকের প্রতি সহানুভূতিশীল বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গ অথবা প্রয়োজনে সাবেক পরিচালকদের থেকে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবি জানানো হয় চিঠিতে।

বিদায়ী আওয়ামী সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংককে ‘জামায়াতমুক্ত’ করার উদ্যোগ হিসেবে এর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয় এস আলম গ্রুপকে। মালিকানা পরিবর্তনে সহায়তা করেন তৎকালীন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এরপর সাড়ে সাত বছরে নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাজশাহীর নাবিল গ্রুপ। এই অর্থ ব্যাংকটির মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশ। এই টাকা বের করতে কোনো নিয়মকানুন মানা হয়নি। এই টাকা বের করা হয়েছে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, তার স্ত্রী, মেয়ের স্বামী, আত্মীয়সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে।



আরো পড়ুন