ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। যার প্রতিটি ঋতুরই রয়েছে নিজস্ব রূপ। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা ঘুরে এখন প্রকৃতিতে বইছে শরতের হাওয়া। তাই আকাশজুড়েও ভেসে বেড়াচ্ছে শুভ্রমেঘ। চলে রোদ ও মেঘের লুকোচুরি। কখনো আবার মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে ফের হারিয়ে যায় সূর্য, নামে ঝুম বৃষ্টি। শরতের এমন বিচিত্র স্বভাবের দিনে শুভ্রমেঘ যেন কাশফুল হয়ে ফোটে প্রকৃতিতে। শরতের রূপ-রস-গন্ধে মুগ্ধ হয় প্রতিটি ভাবুক হৃদয়। প্রকৃতির স্পর্শ পেতে ব্যকুল হয় প্রতিটি মন।
শরতে নদীপার ছেয়ে যায় শুভ্র কাশফুলে। দূর থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকে প্রকৃতি প্রেমীদের। আর সে ডাকেই সাড়া দিয়েছিল রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক শিক্ষার্থী। তারা শাহজাদপুর হতে ছুটে এসেছিল উল্লাপাড়া উপজেলার চরসাতবাড়িয়া জিরোপয়েন্টের করতোয়া-বিলসুর্য্যের তীরের কাশবনে। সবুজ প্রকৃতি আর নীল আকাশের মাঝে সাদা কাশফুলের নৈসর্গিক সৌন্দর্যে পুলকিত করেছে রবিয়ানদের মনকে। হাতাশা, ক্লান্তি ও গ্লানি ভুলে তারা মনের রঙতুলিতে এঁকেছেন নানা অনুভূতি।
পড়ন্ত বিকেলের নাতিশীতোষ্ণ হাওয়ায় জমে উঠেছিল প্রাণের আড্ডা। শুধু আড্ডা নয়, নতুন কিছু ভাবা, নতুন কিছু করার শক্তি ও দিগন্তের বাইরে হারিয়ে যাওয়া। হিমেল হাওয়ায় হৃদয়ে বইছিল প্রশান্তির ঝড়! নতুন দিগন্তের দিচ্ছে ডাক। সম্মুখপানে সহস্র স্বপ্ন আঁকা। এমন প্রকৃতির মাঝে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে ঘুরতে পারা সত্যিই আনন্দের। এমন সোনালি দিনকে স্মরণীয় করতে এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাবরিনা সাম্মা।
শরৎ মানেই কাশফুলের সমারোহ। নদীর তীর জুড়ে কাশবনে ফুটেছে ফুল, পাল তোলা নৌকার সারি, দূর আকাশের কোণে জমে থাকা ধূসর সাদা মেঘের ভেলা। কখনো মিষ্টি রোদে আলোর খেলা আবার কখনো হঠাৎ বৃষ্টির হানা। এর মাঝেই দেখা মেলে রৌদ্র মেঘের লোকুচুরি খেলা। এমন একটি প্রকৃতি অবলোকন আনন্দের বলে জানান শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ।
শরতের সৌন্দর্যে এত কাছে থেকে অনুভব করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হলো। বাংলার ঋতু সৌন্দর্যবহ। শরৎ এর সৌন্দর্য দেখে কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় লিখেছেন , ‘কাশফুল মনে সাদা শিহরণ জাগায়, মন বলে কত সুন্দর প্রকৃতি, স্রষ্টার কি অপার সৃষ্টি।’ সত্যিই শরৎ অনন্য। ঠিক এভাবে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মেহেদী বিন হাসান।
আম্মায় আছিফুন মিম জানান, ঋতু বৈচিত্রের এই দেশে ‘ঋতুর বৈচিত্র্য’ অনুভব করতে গ্রামবাংলার প্রকৃতির কোনো বিকল্প নেই। গ্রামগুলোই সৌন্দর্যের ধারকবাহক। গ্রামের মাটিতে যে সুর, গন্ধ, তৃপ্তি পাওয়া যায় অন্য কোথাও তা মেলেনা।
অনুভূতি ব্যক্ত করে শরিফুল ইসলাম জানান, কাশবন আবেগকে তরান্বিত করে। খোলা আকাশে প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ শুধু শরতের জানান দিচ্ছে। এ কাশবনটি করতোয়ার কোলঘেঁষে গড়ে ওঠার কারণে এর সৌন্দর্যরূপ বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা অনেকেই জানি কাশফুলের নানা ইতিহাস। কবি নির্মলেন্দু গুণের গ্রামের নাম ছিল কাশতলা। কাশফুলকে তিনি এতই ভালোবেসেছিলেন যে শেষ পর্যন্ত তার গ্রামের নাম রাখেন কাশবন।
সত্যজিৎ রায়ের পথের ‘পাঁচালী’ ছবির কথা মনে আছে আপনাদের? কাশবনের ভেতর দিয়ে দৌড়ে বেড়াচ্ছে অপু আর দুর্গা। হ্যাঁ, আমারও ইচ্ছে হয়েছিল কাশবনে হাঁটার। তাইতো ছুটে গিয়েছিলাম চরসাতবাড়িয়া'র কাশবনে। হেঁটেছি পরম তৃপ্তিতে। বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো করেছি ফ্রেমবন্দি। শুভ্র কাশফুলের মতো হোক জীবন, এমন প্রত্যাশা রেখে তার অনুভূতি জানান হাফিজুর রহমান নামের আরেক শিক্ষার্থী।
ঢাকা বিজনেস/এমএ/