০৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার



যে কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়েছে ফ্ল্যাটের চাহিদা

মো. আজহার উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া || ১১ মার্চ, ২০২৩, ০৪:০৩ পিএম
যে কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বেড়েছে ফ্ল্যাটের চাহিদা


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  দিনে দিনে বেড়েই চলেছে ফ্ল্যাটের চাহিদা। প্রতিবছর জেলা শহরে বিক্রি হচ্ছে প্রায় তিন শ রেডি ফ্ল্যাট। যার মূল্য অন্তত দেড়শ কোটি টাকা।  আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, শহরে জায়গা স্বল্পতা ও ভবন নির্মাণে অনুমোদন-প্রক্রিয়া অনেক জটিল। এ কারণেই চাহিদামতো ফ্ল্যাট তৈরি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এছাড়া, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ফ্ল্যাটের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

জেলা শহরের পাইকপাড়া, কাজীপাড়া, হালদারপাড়া ও মুন্সেফপাড়ায় ফ্ল্যাটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে এলাকা ভেদে ফ্ল্যাটের প্রতি স্কয়ারফুটের মূল্য ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। যা আগে ছিল ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আল আমিন বলেন, ‘শহরে জমির দাম এখন আকাশছোঁয়া। এছাড়া, বাড়ি নির্মাণের জন্য বিভিন্ন অনুমোদন আনাসহ নানা জটিলতায় পড়তে হয়। এ সব ঝামেলা এড়াতে এক হাজার স্কয়ারফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনেছি ৩২ লাখ টাকায়। রেডি ফ্ল্যাট পাওয়ায় কেনার পরদিনই ফ্ল্যাটের উঠতে পেরেছি।’

শহরের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, ‘শহরের অলি-গলির ভেতরের জায়গাও এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রমেই বাড়ছে জায়গার দাম। ফলে জায়গা কিনে বাড়ি নির্মাণ করা মধ্যবিত্তদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ফলে মানুষ ফ্ল্যাটের দিকে ঝুঁকছে।’

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ১৫ থেকে ২০টি প্রতিষ্ঠান আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছে। যার মধ্যে কয়েকজন ঠিকাদারও আছেন। মূলত এলাকা ও অবস্থান অনুযায়ী জায়গার মালিকদের সঙ্গে চুক্তি করেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। কিছু ক্ষেত্রে জায়গার মালিক ৬০ শতাংশ আবার কোনো কোনো জায়গার জন্য তৈরি ভবনের ৫০ শতাংশ করে পান জায়গার মালিক ও সংশ্লিষ্ট আবাসন ব্যবসায়ী। ভবন নির্মাণের পুরো খরচ বহন করে আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো।

কয়েকজন আবাসন ব্যবসায়ী জানান, ভবন নির্মাণের জন্য পৌরসভা থেকে অনুমোদন নিতে হয়। যেখানে ভবন নির্মাণ করা হবে, তার পাশে ১৪ থেকে ১৬ ফুট পর্যন্ত রাস্তা থাকলেই ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের অধিকাংশ এলাকাতেই এই আকারের রাস্তা নেই। এজন্য ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি কিছুটা শিথিল চান ব্যবসায়ীরা। 

আবাসন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রফিক কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ বাড়ি তৈরির ঝামেলা এড়াতে ফ্ল্যাটের দিকে ঝুঁকছে। সবাই চায় ঝামেলামুক্ত আবাসন। এক্ষেত্রে আমরা মানুষকে সেই সুবিধা দিচ্ছি। এছাড়া মধ্যবিত্তরা কিস্তির মাধ্যমেও ফ্ল্যাট কিনতে পারছে।’

আরেক আবাসন ব্যবসায়ী মো. কাদের উজ্জামান বলেন, ‘নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বাড়ার কারণে এখন ফ্ল্যাট তৈরিতে খরচ পড়ছে বেশি। প্রতি স্কয়াফুটে খরচ হচ্ছে ২ হাজার টাকারও বেশি।  এছাড়া ছয়তলার বেশি উচ্চতার ভবনের অনুমোদন দিচ্ছে না পৌরসভা। এসব কারণে ফ্ল্যাটের দাম কিছুটা বেশি।’

এম. কে. বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বছরে আড়াই শ থেকে তিন শ ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে এই চাহিদা। কিন্তু জায়গা স্বল্পতা ও ছয়তলার বেশি উচ্চতার ভবন তৈরির অনুমোদন না থাকায় আমরা ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ফ্ল্যাট দিতে পারছি না। শহরের অধিকাংশ এলাকায় ১৬ ফুটের রাস্তা নেই।’তিনি আরও বলেন, ‘ভবন তৈরির  জন্য বিদ্যমান বিধি কিছুটা শিথিল করলো ছয়তলার বেশি উচ্চতার ভবন তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে ফ্ল্যাট বিক্রি বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে। পাশাপাশি ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন।’ 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির বলেন, ‘সর্বনিম্ন ১৪ ফুটের রাস্তা থাকলেই ছয়তলা পর্যন্ত ভবন তৈরি করা যাবে। তবে এটি পৌরসভার কোনো বিধি নয়। সরকার থেকেই এটি নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত মানুষের হাঁটাচলা ও যানবাহন যেন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে, সেজন্যই এই বিধান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে পৌরসভার কিছু করার নেই।’ 

ঢাকা বিজনেস/এনই/



আরো পড়ুন