শীত যেমন স্বস্তির ঋতু, তেমনি হুটহাট ঠাণ্ডা লেগে যাওয়া, জ্বর আসার মতো ছোটখাটো রোগও লেগে থাকে। এরই মধ্যে শিশুস্বাস্থ্যের ওপর বেশি পড়ে শীতের বিরূপ প্রভাব। তাই শীতকালে কিছু নিয়ম মেনেই শিশুকে সুস্থ রাখা যায়। শীতে শিশুর সুরক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞরা দিয়েছেন দশটি টিপস।
০১. নিয়মিত হাত ধোয়া
শিশুকে সুস্থ রাখতে হলে তাকে অবশ্যই অন্যান্য সময়ের মতো নিয়মিত হাত ধোয়াতে হবে। কারণ এ সময় বাতাসে ধুলিকণা বেশি থাকে। নিয়মিত হাত না ধোয়ালে খাবার বা খেলনার সঙ্গে সেগুলো শরীরে প্রবেশের আশঙ্কা বেশি। এক্ষেত্রে ঠাণ্ডা পানির বদলে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে।
শিশুর মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। আপনি সামনে না থাকলেও নিজে থেকেই যেন সে ব্যবহার করতে পারে সেটা শিখিয়ে দিতে হবে। শিশুরা যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করবে, সেটি নন স্টিকি হলে ভালো হয়। এতে হাত আঠা আঠা মনে হবে না। তার মাঝে হাত ধোয়ার অভ্যাস যতটা গড়ে দেওয়া যাবে, ততই ঠাণ্ডা, ফ্লু, নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা তার থেকে দূরে থাকবে।
০২. নিয়মিত গোসল করানো
শীতের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় শিশুদের গোসল করাতে চান না অনেকেই। কিন্তু গোসল না করলে শরীর আর চুলে ধুলো লেগে থাকবে যা শিশুর জন্য মোটেই ভালো নয়। এক্ষেত্রে গোসলের সময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে বেবি সোপ। কারণ এ ধরনের সাবানে ক্ষারের পরিমাণ খুবই কম থাকে। অ্যালার্জির চিন্তা থেকে অনেকটাই নিশ্চিন্ত থাকা যায়। শিশুদের মাথার ত্বক খুবই সেনসিটিভ বলে ভালো মানের ও কম ক্ষারের বেবি শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে।
০৩. নিয়মিত সোয়েটার পরিষ্কার করা
শীতে শরীর ঘামে না বলে শিশুদের উলের সোয়েটার ধোয়ার কথা আমাদের ভাবনাতেই আসে না। কিন্তু উলে খুব দ্রুত ধুলোবালি আটকে যায়। এতে শিশুদের ডাস্ট এলার্জি বেড়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত উলের সোয়েটার ধুয়ে দিতে হবে। উলের সোয়েটার খুব নরম হয় বলে কখনোই ক্ষার জাতীয় সাবান দিয়ে সেগুলো ধোয়া যাবে না। এক্ষেত্রে ওয়াশিং লিকুইড ব্যবহার করলে সোয়েটার অনেকদিন ভালো থাকবে।
০৪. দরজা জানালা খুলে রাখা
বদ্ধ রুমে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে না বলে ঘরে জীবাণুর সংক্রমণ বাড়তে থাকে। তাই সূর্যের আলো ঘরে প্রবেশ করা পর্যন্ত দরজা জানালা কিছু সময়ের জন্য খুলে রাখতে হবে। দুপুরের পর আবার সব লাগিয়ে দিতে হবে। যেন মশা প্রবেশ না করতে পারে। শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে সন্ধ্যার পর তার শরীরে Mosquito Repellent Spray ব্যবহার করতে হবে।
০৫. গরম খাবার খাওয়ানো
শীতের সময় শিশুদের ঠাণ্ডাখাবার পরিবেশন থেকে বিরত থাকুন। ফ্রিজে থাকা যে কোনো খাবার দেওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে গরম করে নিতে হবে। সম্ভব হলে দিনে অন্তত একবার স্যুপ, গরম পানি, গরম দুধ, খাওয়াতে হবে। এতে শিশুর শ্বাসকষ্ট বা ঠান্ডার সমস্যা থাকলে আরাম মিলবে। সঙ্গে ভিটামিন সি যুক্ত ফল অবশ্যই খাওয়াতে হবে।
০৬. ত্বকের যত্ন নেওয়া
শিশুদের রোগের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে অনেক কিছু করার পাশাপাশি নজর রাখতে হবে শিশুর ত্বকের দিকেও। ত্বক শুষ্ক, ঠোঁট ফাটা বা হাতে-পায়ে-আঙুলের ফাঁকে চুলকানির মতো সমস্যা হচ্ছে কি না; এসব দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। শিশুদের ত্বক কোমল রাখার জন্য দুধ, অলিভ অয়েল ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ বেবি লোশন ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো। এতে তাদের ত্বকে কোনো অ্যালার্জিও হবে না।
০৭. খেলাধুলা করা
অসুস্থ হয়ে যাবে এই চিন্তায় শীতের সময় শিশুদের খেলাধুলার বদলে কম্বলের নিচে থাকার পরামর্শই বেশি দেন বড়রা। কিন্তু এটা তাদের জন্য মোটেই উপকারী নয়। এ সময় খেলাধুলা কমিয়ে দিলে শরীরের ভেতর যে কোষগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় সেগুলো দুর্বল হতে থাকবে। তাই পর্যাপ্ত খেলাধুলা করা এ সময় অবশ্যই জরুরি।
০৮. পর্যাপ্ত ঘুম
বয়স অনুযায়ী শিশুদের ঘুমের পরিমাণ বিভিন্ন রকম হয়। যেমন, জন্মের পর ১৪/ ১৬ ঘণ্টা, ৬ মাস থেকে ১ বছর বয়সে ১৩/১৪ ঘণ্টা, ২-৫ বছর বয়সে ১১/১২ ঘণ্টা এবং ৬-১৬ বছর বয়সে ৯ থেকে সাড়ে ১০ ঘণ্টা। খেয়াল রাখতে হবে, এ বয়স অনুযায়ী শিশুরা নির্দিষ্ট পরিমাণে ঘুমাচ্ছে কিনা। কারণ ভালো ঘুম শরীরে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমায়।
০৯. পানি পান করা
শীতে পানির পিপাসা কম লাগে। তাই শিশুদেরও পানি পানে বেশ অবহেলা দেখা যায়। কিন্তু অভিভাবক হিসেবে আপনার মনে রাখতে হবে, এ সময়েও শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পানি প্রবেশের প্রয়োজন আছে। তাই সময়মতো শিশুকে পানি পান করাতে একদম ভুলবেন না।
১০. রাতে ওয়াইপসের ব্যবহার
অন্যান্য সময়ের চেয়ে শীতে নবজাতক শিশুদের জন্য আলাদা যত্নের প্রয়োজন হয়। শিশুদের রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই পাশে বেবি ওয়াইপস রাখুন। যখনই প্রয়োজন হবে তখনই যেন ওয়াইপস দিয়ে শরীর মুছে পোশাক বদলে দেওয়া যায়। নইলে ভেজা পোশাকে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। ওয়াইপস ব্যবহারে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিয়ে কোনো চিন্তা থাকে না। শিশুর জন্য অবশ্যই অ্যালকোহল ফ্রি ওয়াইপস বাছাই করুন।
/ঢাকা বিজনেস/