টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাথরাইল বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি-১৯৮৬ ব্যাচের ইফতার ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ ২০২৪) পাথরাইলের বেসরকারি সংস্থা নিরাপদ সমাজের প্রধান কার্যালয়ে ইফতার ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশে নেন ‘৮৬ ব্যাচের বাংলাদেশ ও ভারতে বসবাসরত শিক্ষার্থীরা। ইফতারের পর পাথরাইল স্কুলের ’৮৬ ব্যাচের তুখোড় ছাত্র, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক এবং নিরাপদ সমাজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জিএম শফিউর রহমানের উপস্থাপনায় জমে ওঠে আড্ডা ও আলোচনা।
আলোচনায় অংশ নেন পাথরাইল তাঁত ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন, ব্যবসায়ী সন্তোষ বসাক, নিরঞ্জন বসাক, অখিল চন্দ্র বসাক, লিটন মিয়া, আনিস মেম্বার, ভারত থেকে আগত ৮৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী শঙ্কর বসাক, অনিতা বসাক, লতা বসাক, উমা বসাকসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, পাথরাইল হাইস্কুলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতো ওই এলাকার শিক্ষা এবং সংস্কৃতিচর্চা। যার কুশীলব ছিলেন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত আশুতোষ চন্দ এবং যার নেপথ্য নেতৃত্বে ছিলেন স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি স্বর্গীয় জিতেন্দ্র নাথ বসাক। যার ফলে ওই অঞ্চলে সমাজ-ধর্ম নির্বিশেষে গড়ে উঠেছিল এক সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো। সেই ধারাবাহিক সংস্কৃতিচর্চার পেছনে আরেক অভিভাবক ছিলেন শিক্ষীকা ঝর্না চন্দ। যাদের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হতো পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়কে। একঝাঁক মেধাবী শিল্পী তখন প্রতিনিধিত্ব করতেন স্কুল তথা এলাকার শিল্প-সাহিত্য চর্চার। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জিতেন্দ্র নাথ বসাকের কন্যা অনিতা বসাক এবং ভোলানাথ বসাকের কন্যা লতা বসাক প্রমুখ। সংগঠক হিসেবে কাজ করতেন জিএম শফিউর রহমানসহ অন্যরা।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিজনেস সম্পাদক, উদ্যোক্তা এবং নিরাপদ সমাজের নির্বাহী পরিচালকের উপদেষ্টা উদয় হাকিম, নিরাপদ সমাজ কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমূল্য ঘোষ, নির্বাহী পরিচালক জয়দেব গোপ, উপ-পরিচালক তারক নাথ বসাক এবং কর্মকর্তা কবির হোসেন।
আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে সবাই মেতে ওঠেন গল্প-আড্ডায়। ‘পুরেনো সেই দিনের কথা ভুলবি কি রে হায়’ গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রাণবন্ত এক অনুষ্ঠানের।